মঙ্গলবার । ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২

ফকিরহাটের বাজারে মাছের দাম দ্বিগুণ, ক্ষুব্ধ ক্রেতা সাধারণ ও ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা

মোঃ সাগর মল্লিক, ফকিরহাট

বাগেরহাট জেলার সর্ববৃহৎ মৎস্য আড়ত ফকিরহাট উপজেলার ফলতিতা বটতলায় রমজান মাসের শুরুতেই মাছের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। আড়তে দাম কম হলেও মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরের ফকিরহাট খুচরা বাজারে একই মাছ অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্রেতা ও চাষীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং খুচরা বাজারের প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সম্ভাব্য কারসাজি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ফলতিতা বটতলা মাছের আড়ত কর্তৃপক্ষ জানায়, রমজানের আগে বড় আকারের চিংড়ি মাছ প্রতি কেজি ১১শ’-১২শ’ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৮শ’-৯শ’ টাকায়। রুই, কাতলা ও অন্যান্য সাদা মাছের দামও কমেছে।

তবে আড়ত থেকে বাজারে পৌঁছানোর পর দাম অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। ৫/৬ কেজি সাইজের কার্প মাছ আড়তে প্রতি কেজি ২৮৫ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও ফকিরহাট বাজারে ৫শ’ টাকার কাছাকাছি বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দামও সাইজ ভেদে ৮০০-৯০০ টাকায় আড়তে বিক্রি হলেও বাজারে ২শ’-৩শ’ টাকা বেশি।

ক্রেতা সৈকত মল্লিক বলেন, “আড়তে দাম কম, কিন্তু বাজারে অনেক বেশি। এত অল্প দূরত্বে দাম বেড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক।”

স্থানীয় চাষীরা অভিযোগ করেন, “খুচরা বাজারের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা আড়ত থেকে কম দামে মাছ কিনে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রি করছে। এতে চাষীরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না, সাধারণ ভোক্তারা অতিরিক্ত খরচ করছেন।

ফলতিতা আড়তের ব্যবসায়ী জ্ঞান দাস বলেন, “রমজান শুরু হওয়ার পর বড় মাছের চাহিদা কমে গেছে। আগে চিংড়ি ১১০০-১২০০ টাকায় বিক্রি করতাম, এখন ৮শ’-৯শ’ টাকায় ছাড়তে হচ্ছে। রুই ও কাতলার দামও কমেছে। এতে আমাদের লাভ কমেছে, চাষিরাও ক্ষতিগ্রস্ত।”

বৃষ্টি মৎস্য আড়তের স্বত্বাধিকারী মিজানুর ফকির বলেন, “বাজার স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর সংরক্ষণ ব্যবস্থা, বিকল্প বাজার সম্প্রসারণ ও সরকারি নজরদারি জরুরি। তা না হলে জেলার মৎস্যখাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে বাগেরহাট ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শরীফা সুলতানার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত বাজার তদারকি ও সিন্ডিকেট ভাঙার কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে প্রান্তিক চাষি ও সাধারণ ভোক্তারা আরও বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন